Listen

Description

হ্যাপি নিউ ইয়ার। বছরের প্রথম এপিসোড, দু চার দিন আগে করা উচিত ছিল , কিন্তু ঠান্ডা লেগে গলার অবস্থা খারাপ, তাই একটু দেরি হল। এবারের এপিসোড পেলেকে নিয়ে করার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু ডাকবাংলা ডট কমে চন্দ্রিল ভট্টাচার্য এই নিয়ে এই সপ্তাহেই কথা বলেছেন, ওনার বলার পরে আমার আর কিছু বলার ধৃষ্টতা থাকে না। আমি অফবিট পুরুলিয়ায় ফিরে এলাম। 

নমস্কার ,আমি সৃজন।  আজকের অফবিট জায়গা নিয়ে বলার আগে দূর্গা পূজা নিয়ে আপনার জেনারেল নলেজ একটু টেস্ট করে নেওয়া যাক। দেবী দুর্গার কোন পা মহিষের ওপর থাকে বলুন তো? 

ভাবুন ভাবুন , ভাবা প্র্যাকটিস করুন। ঠাকুর দেখতে বেড়িয়ে ফুচকা খাবেন, বিরিয়ানি খাবেন, চাউমিন, পিজ্জা খাবেন , আড্ডা দেবেন, গান করবেন , ঠাকুর ভালো করে লক্ষ্য করবেন না এ কেমন কথা।  

মনে পড়ছে না তো ? বলে দেই।  দূর্গা ঠাকুরের বামপা থাকে মহিষের উপর। আজ যে জায়গা নিয়ে কথা হবে আপনি যদি সেখানে আসেন তাহলে মা দুর্গাকে পাবেন মহিষের উপর ডান পা রেখে। ইউটিউব, ফেসবুকে যখন দেখবেন ছবিটাও সাথে দিয়ে দেব। ইন ফ্যাক্ট, তেলকুপি আর ছড়ড়ার ভিডিও ও রিলিজ করা হয়নি এখনো, ওগুলো ও  করতে হবে, অনেক দিন হয়ে গেল। 

এই যে অফবিট পুরুলিয়া সিরিজের অফবিট জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলছি, আমার প্রথম এরকম যে জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল সেটা দেউলঘাটা, আজকের এপিসোডের টপিক। সেটা দুহাজার একুশ। ওখানে গিয়ে আলাপ হয়েছিল তনুশ্রী মুখার্জীর সাথে। উনি ওখানে প্রায় চল্লিশ বছর আছেন এবং ওখানেই নিয়মিত পূজাঅর্চনা করেন। ওনার লেখা ছোট একটা বইও আছে - মন্দিরনগরী দেউলঘাটা। ইউটিউবে দেউলঘাটার vlog দেখলে প্রায় সবকটাতেই ওনার সাক্ষাৎকার পাওয়া যাবে। ওনার খুব strong opinion দেউলঘাটা প্রথমে বৌদ্ধ এবং পরে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মন্দির, জৈনদের নয়।  কিন্তু আমি যা বইপত্র পড়ছি - অহল্যাভূমি পুরুলিয়া, পুরুলিয়ার পথে প্রান্তরে, রাঢ় বাংলায় জৈন অবশেষ - এখানে দেউলঘাটাকে জৈন ধর্মালম্বীদের মন্দির বলেই বলা আছে। বেগলার সাহেব আবার এই মন্দিরগুলোকে শৈবিক বলে লিখেছেন। 

তবে আমার ব্যক্তিগত মতে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে বিনয় ঘোষ ড্যাল্টন সাহেবকে কোট করে যে যুক্তি দিয়েছেন সেটা সব থেকে বেশি লজিক্যাল। লেফটারন্যান্ট কর্নেল ই টি ড্যাল্টন, ছোট নাগপুরের কমিশনার, ওনার Notes on a Tour in Maunbhoom in 1864-65 এই লেখায় কি বলেছিলেন সেটা একটু পড়ে শোনাই - 

These three temples are all of the same type and no doubt correctly ascribed by the people to the srawaks or Jains. I found, indeed, no Jain images, but about a mile to the south, the remains of a Hindoo temple in a grove was pointed out to me, and all the images from all the temples were dedicated to shiva, but amongst the images were several nude figures …that were in probability the “Jinas” of the brick temple.

বিনয় ঘোষ এই টুকুই কোট করেছেন এবং এটা পুরো পিকচার ক্লিয়ার করে দেয়। আমি ড্যাল্টনের পুরো লেখাটা পড়লাম, থ্যাংকস টু ইন্টারনেট, সেখানে উনি বলছেন তিনি এখানে কেবলমাত্র একটাই পশুপাখির সিম্বল পাচ্ছেন, সেটা রাজঁহাস। রাজঁহাস বুদ্ধিস্ট সিম্বল। 

তাহলে, আঠেরশ চৌষট্টিতে ড্যাল্টন সাহেব যা যা দেখেছিলেন, যা যা লিখেছিলেন - সেটা মানলে, এখানে ইঁট, কাঠ, পাথরের পাঁজর থেকে ইতিহাস ফিসফিস করে বলছে - সে দেখেছে, রাজাদের উত্থান-পতন , কাঁসাই ধরে বণিকদের আসা যাওয়া , সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যাওয়া ধর্ম বিশ্বাস - “জৈন, বৌদ্ধ, তুর্কি, হিন্দু, দিন-ইলাহী, চন্দ্রবিন্দু” । মানে এখানে এই একটা জায়গায় আলাদা আলাদা সময়ে জৈন, ,বুদ্ধ এবং হিন্দু ধর্ম তার প্রভাব রেখেছে। এখনো এখানে একাধিক শিব মূর্তি , গনেশ মূর্তি এবং অন্যান্য হিন্দু দেব দেবীর মূর্তি অক্ষত দেখা যায়।  আমি যখন গেছিলাম , ভাঙাচোরা পাথরের পদ্মাসনে বসা পাথরের দেহের অংশ দেখেছি, সেগুলো বুদ্ধের পদ্মাসনে বসা ধ্যানমগ্ন মূর্তি বলেই স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস। 

এই একটা জায়গাতে এলেই কত কত ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া যাবে। ড্যাল্টন বা বেগলার এখানে তিনটে মন্দির দেখেছিলেন, কিন্তু আপনি গেলে এখন দুটো মন্দির পাবেন,  একটা ভেঙে গেছে। কে বলতে পারে কয়েক বছর পরে হয়ত এগুলোও আর থাকবে না। Link to Tusu Episode - https://spoti.fi/3GnFeED