Listen

Description

ভিনদেশে এসে মানুষ নিজের লোককে খোঁজে, নিজের জায়গার খাবার খোঁজে। দিল্লি এসে আমি পেলাম কলকাতা কাঠি রোল। কলকাতায় বা পশ্চিমবঙ্গে আমরা যাকে এগ রোল বলে জানি, বাংলার বাইরে সেটাই কলকাতা কাঠি রোল । প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, একটা চেনা জিনিস দেখে খুব ভালো লেগেছিল, কিন্তু রোলে মেয়োনিজ দেওয়া হচ্ছে দেখে খুব একটা সাহস পাইনি । কিন্তু আগের এপিসোডে বলেছিলাম, এই এপিসোড হবে কলকাতা কাঠি রোল নিয়ে, তাই সাহস করে একটা দোকানে চলেই গেলাম । এটা দিল্লীর দ্বারকায়। দ্বারকাকে আমাদের কলকাতার সল্টলেক বা নিউটাউন হিসাবে ভাবতে পারেন । এই জায়গা নিয়ে অন্য একদিন বলব। আজ কলকাতা কাঠি রোল। আগের দুটো এপিসোডে, আমি সৃজন, আমার পডকাস্ট, সৃজনের পডাবলিতে মিষ্টি খাইয়েছি, এবার নোনতা ।

আজ থেকে বছর কুড়ি পঁচিশ আগেও পশ্চিমবঙ্গে, পাড়ায় পাড়ায় বিরিয়ানির এত দোকান ছিল না। শহর কলকাতাতেও সিরাজ, আমিনিয়া, রয়্যাল এরকম কয়েকটা বড় দোকান ছিল। পাড়ায় পাড়ায় যেটা ছিল, মোগলাই পরোটা , এগরোল এসবের দোকান। মোগলাই পরোটা এখন খুব একটা দেখা যায় না। এগ রোল কিন্তু দিব্বি টিকে আছে। আর সেখানে যে এগ চিকেন রোল পাওয়া যায়, তার নন রেসিডেন্ট বেংগলি কাজিন এই দিল্লীর কলকাতা কাঠি রোল। শুধু দিল্লীই বা বলি কেন । ব্যাঙ্গালোর, মুম্বাই হয়ে বিদেশেও কলকাতা কাঠি রোল নামেই জিনিসটা বিখ্যাত ।

এবার আমার খেতে কেমন লাগল সেটা পরে বলছি , আগে বলি জিনিসটার এই নাম কাঠি রোল সেটা কোথা থেকে এলো । ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ীর অখন্ড ফুড কাহিনীতে বলা আছে - আমাদের কলকাতার নিউ মার্কেটের নিজাম এই কাঠি রোলের জন্মদাতা। পরোটার মধ্যে চিকেন শিক কাবাব দিয়ে জিনিসটা বানানো হত । দুটো সম্ভাবনার কথা বলা আছে এই জনপ্রিয় খাবারের শুরুর গল্প হিসাবে । একটা মত হচ্ছে - কোন এক সাহেব হাতে তেল ময়লা না লাগিয়ে কাবাব আর পরোটা খেতে চেয়েছিলেন বলে এখানকার খানসামা বা রাঁধুনি তাঁর জন্য এই পরোটার মধ্যে শিক কাবাব পুরে এই জিনিসটা বানায় । অন্য একটা মত ও আছে এই বইতে। সেটা বলছে - সাহেব না, দেশি লোকের ডিমান্ডেই এই আবিস্কার। লোকের হাতে সময় কম, তাই তাড়াহুড়ো করে নিয়ে রাস্তা দিয়ে খেতে খেতে যাওয়ার সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এর সৃষ্টি। 

সে যাই হোক - দিল্লীর রোল । শসা এবং কাঁচা লঙ্কা উল্লেখযোগ্য মিসিং জিনিস। চিকেনটা কাবাব না, জাস্ট বোনলেস চিকেন টিক্কা একটু পেঁয়াজ, হাল্কা সস দিয়ে রান্না করে এগরোলে দেওয়া হচ্ছে। কাঁচা পেঁয়াজ একটু দেওয়া হচ্ছে অবশ্য । টমেটো সস, একটু চিলি সসের সাথে আবার মেয়োনিজ ও দেওয়া হয়। খেতে সে জন্য আমার একটু মিষ্টি মিষ্টি লেগেছিল। কিন্তু একেবারে ওয়াক থ্যু নয় । খাওয়া যায় । খাওয়ার পরে বলেছিলাম যে, কলকাতার রোল কিছুটা আলাদা । তাতে রোলের দোকানদার বললেন যে আগে বললে কলকাতা স্টাইলে বানিয়ে দিতেন আমার জন্য। তবে শসা থাকে না ওনার কাছে ।

আগের এপিসোডে আফসোস করছিলাম, বাঙালি নিজের খাবার, সেভাবে, বাইরের লোকের কাছে পপুলার করতে পারলো কই । সেখানে খাঁটি কলকাতার রোল বাইরে জনপ্রিয় হয়েছে , সেটা মন্দ কি ! মেয়োনিজের মতন লোকাল adaptation না হলে সেটা হয়ত হত না, এখানে মোমো ও মেয়োনিজ দিয়েই খায়। তবে এগরোলের ভিতর চাউমিন বা পনির ঢুকিয়ে কিছু একটা বানানো হচ্ছে এই সব দোকানে, সেটা কেমন হবে চেখে দেখার রিস্ক নিলাম না। তবে চকলেট ধোসা ও বিক্রি হতে দেখলাম, সে হিসাবে এই টুকু লোকাল adaptation মেনে নেওয়াই যায় । যায়না কি ? জানান আমাকে । 

আমি কলকাতা থেকে আসার সময় হাতে করে একটাই বই এনেছি - ফুড কাহিনী, সেজন্য পরের এপিসোডেও খাবার নিয়ে কথা হবে। তাই যেখানে এই পডকাস্ট শুনছেন, সেখানে - ফলো, সাবস্ক্রাইব এগুলো করা থাকলে আমার সাথে এই উইকলি আড্ডাটা মিস হবে না। আর স্পটিফাইতে যদি শুনছেন, তাহলে প্লিজ রেটিংটা দিয়ে দেবেন, তাহলে আরো বেশি লোকের কাছে পৌঁছে যাবে। একটা নতুন টপিকে কথা বলার ইচ্ছে একটু মোটিভেশন পাওয়া যাবে, এই আর কি ।

ভালো থাকবেন । সুস্থ থাকবেন। ফিরছি সামনের সপ্তায় । এখন চলি, টাটা ।