পুজো শেষ হলে মা চলে যান , নাকি মা থেকে যান, চলে যায় সন্তানেরা । মন খারাপ কোথায় বেশি হয়? গঙ্গার ঘাটে , ইছামতীতে মাঝ নদীতে নাকি দমদম এয়ারপোর্ট, হাওড়া- শিয়ালদা স্টেশনে ।
নমস্কার, আমি সৃজন । সৃজনের পডাবলীতে আজ শুধু মন খারাপের গল্প ।
পোস্ট কোভিড সিন্ড্রোমের থেকে পোস্ট পুজো সিন্ড্রোমের ধাক্কা খুব একটা কম কি ? বিশেষ করে ,আমরা ,যারা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য হই । আমাদের জন্য যতটা কষ্টের , বাড়িতে বউ , বাচ্চা , মা , বাবা , ভাই , বোন তাদের জন্যেও তো ততটাই ।
বাড়ি নিয়ে একটা খুব সুন্দর লেখা পড়লাম ফেসবুকে । বাড়ি বলতে আমরা সেই জায়গাটা বুঝি , যেখানে প্রথম জ্ঞান হয় । আমাদের পার্মানেন্ট address পাল্টে পাল্টে যায় সময়ের সাথে সাথে । কিন্তু আমাদের অবচেতন মনে সেই জায়গাটা যে পার্মানেন্ট address বানিয়ে ফেলে , সেটা মোছা সম্ভব হয় না। তারপর যতই নতুন নতুন ঠিকানা সরকারি ডকুমেন্টে লেখা হোক না কেন । বাড়ি ছাড়ার একটা কষ্ট থেকেই যায়, সে আমরা express করি বা না করি । বাড়ি নিয়ে অন্য একদিন আড্ডা দেব, আজ পুজো ।
কবীর সুমনের একটা লাইন আমার খুব প্রিয় । infact, একটা নয়, অনেক লাইনই প্রিয় । তবে প্রিয়তম লাইনগুলোর একটা - "সে চলে গেলেও থেকে যাবে তার স্পর্শ আমারই হাতের ছোঁয়ায়;.নুয়ে পড়বেই স্মৃতিরা যেখানে দেবদারু তার কপাল নোয়ায়" ।
দুর্গাপুজো ও সেরকমই । মাস তিনেক আগে থেকেই অনলাইন - অফ লাইনে কেনা কাটা শুরু, পুজো আসছে- পুজো আসছে এই আনন্দে সব কিছুই ভালো লাগে । সব থেকে ভালোলাগার ব্যাপারটা হল , কয়েকদিন প্রিয় মানুষের সাথে , প্রিয় মানুষদের সাথে কিছুটা বেশি সময় কাটানো যাবে । ঠাকুর দেখতে বেরোলে হাজার হাজার অচেনা মানুষ , সবাই আনন্দ করছে, সেই আনন্দে সামিল হওয়া যাবে। এই লোভ কাটানো যায় কি ?
এই চারটে দিনে বছরের বাকি তিনশ একষট্টি দিনের রসদ জোগাড় করে রাখতে হয় । এই ফিক্সড ডিপোজিট , একটু একটু করে ভাঙিয়ে , চালাতে হয় সারা বছর । আর প্রথম হাত পড়ে, পুজোর ঠিক পরে, কাজের জায়গায় ফেরবার সময় ।
মজার ব্যাপার এই সব সময়েই সব থেকে বেশি করে ভোগায় app cab এর অসভ্যতা । একে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট , তার উপর ক্যাব ড্রাইভাররা পরপর হয় ক্যানসেল করতে থাকে , না হয় জুলুম শুরু করে । মনে হয়, থেকে যাই । উপরওয়ালার ইচ্ছে নয় ফিরে যাওয়া । কিন্তু EMI গুলো বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনে । আর হাতে গোনা যে কটা ছুটি, তার থেকে কয়েকটা কমে যাওয়া afford ও করা যায়না ।
বন্ধুরা কথা হয়, চল , সব ছেড়ে ছুড়ে বিজনেস শুরু করি । কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালি অন্যের ব্যবসার জন্য পুরো effort লাগিয়ে দিতে পারি, নিজের ব্যবসা শুরু করার সাহস জোগাড় করে উঠতে পারি না।
যেদিন সেই সাহস জোগাড় করে ফেলতে পারবো, বাড়ির লোকজনকে ফেলে কাজের জায়গায় ফেরার কষ্ট আর থাকবে না, বন্ধুদের সাথে দেখা করবোই ভেবেও দেখা না করার কষ্টটা থাকবে না । বিজয়ার কষ্ট বেশ কিছুটা কমবে।
আপনার পুজো কেমন কাটলো ? নাহ , এটা বোকা বোকা প্রশ্ন হয়ে গেল। পুজো কারো খারাপ কাটে না, খারাপ কাটতে পারে না, সে টাকি কিম্বা টরেন্টো , পৃথিবীর যে প্রান্তই হোক না কেন । আমার পুজো কিন্তু দারুন কেটেছে । শুনবেন সেই গল্প ? জানান আমাকে । ফেসবুকে , ইনস্টাগ্রামে সৃজনের পডাবলী পেজে বা ইউটিউবে সৃজন কুন্ডু প্রোফাইলে ।
এই এপিসোড শোনা যাচ্ছে স্পটিফাই সহ সব লিডিং পডকাস্ট প্লাটফর্মে , এবং তারপর অডিওর উপর ভিডিও চাপানো হলে ইউটিউবে এবং ফেসবুক পেজে ।
কেমন লাগছে সৃজনের পডাবলী ? জানান আমাকে।যেখানে আছেন, যেমন আছেন, তাতেই ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন। আবার কথা হবে। ধন্যবাদ।