Listen

Description

What is the relationship between kolkatar rasogolla ( written as rasgulla in some part of india ) and Christiano Ronaldo ?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কখনো রসগোল্লা খেয়েছেন কি? মনে তো হয় না । কিন্তু ওনার সাথে রসগোল্লার যে যোগাযোগ, সেটা শুনলে বাংলা আর উড়িষ্যার মধ্যে রসগোল্লা নিয়ে যে মিষ্টি লড়াই, সেটা থেমে গিয়ে পর্তুগাল আর চায়নার মধ্যে ধুন্ধুমার যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু সেটা কেন ? সেই নিয়েই আমি সৃজন, আমার এই পডকাস্ট, সৃজনের পডাবলিতে আড্ডা দেব আপনার সাথে । চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসুন। আজ রসগোল্লা নিয়ে জমাটি আড্ডা হবে। 

বাংলার মিষ্টি বললেই মাথায় আসে সন্দেশ, রসগোল্লা এই সব । এগুলোর মূল উপাদান চিনি আর ছানা , এই চিনি, ছানা, কোনটাই বাংলায় অনেকদিন ধরে আছে, এরকম নয় ।

ইন্দ্রজিৎ লাহিড়ী অর্থাৎ ফুডকা ওনার অখন্ড ফুড কাহিনী এই বইয়ের একদম ফার্স্ট চ্যাপ্টার চৈনিক ব্রেকফার্স্টে বলছেন - "অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে এক ভাগ্যাহত চীনা ব্যবসায়ী এসে নামেন এই বঙ্গভূমে - টম আছু … বলে রাখা ভালো, কালে কালে এর নামানুসারে এই স্থানের নামকরণ হবে অছিপুর। ব্রিটিশ সাহেবরা ব্যবসাটা নিতান্ত মন্দ বুঝতেন না। আর টম সাহেব তার সঙ্গে যথেষ্ট সদ্ভাব রেখেই চলতেন। ফলে ওয়ারেন হেস্টিংস তাকে কিছুটা জমি দেন চিনির কারখানা স্থাপনের জন্য এবং ভারতবর্ষ মুখ দেখে সুন্দর দানা চিনির। যে মিষ্টির জন্য আমাদের এত অহংকার এই দানা চিনি বা গ্র্যানুলেটেড সুগার কিন্তু তাকে নিয়ে যায় অন্য এক উচ্চতায় । এটাও বলা হয় যে, লোকাল উচ্চারণে চাইনিজ শব্দটি হয়ে যায় চীনা এবং তার থেকে তাদের বানানো বস্তুর নামকরণ হয় চিনি।"

এই গেল চিনির গল্প। এবার আসা যাক ছানায়। 

1498, ভাস্কো ডা গামা এসে নামলেন কালিকট বন্দরে । তার মোটামুটি বছর তিরিশেকের মধ্যেই পর্তুগিজ বাহিনী এসে পৌঁছায় বাংলায় । এখানে বাংলা বলতে সেই সময়ের বাংলা কে বুঝতে হবে , মানে পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যার এগুলোর ও বড় একটা অংশ । পর্তুগিজরা ঘাঁটি গাড়লো ব্যান্ডেলে । আমি চট্টগ্রাম, সাতগাঁও, হুগলি আরো এই সব বন্দরে পর্তুগিজ activity নিয়ে ডিটেলে যাচ্ছি না। তো এই পর্তুগিজদের সাথে ভারতে, বাংলায় এলো তিন রকমের চিজ - কটেজ চিজ বা আজকের ছানা, ব্যান্ডেল চিজ আর পনির । তার আগে অব্দি ভারতে লোকে বিশ্বাস করত দুধ কেটে গেলে সেটা খারাপ আর আপবিত্র হয়ে যায় , ফলে, সেটা খাওয়া হত না। ইন ফ্যাক্ট দীর্ঘদিন পর্যন্ত ঠাকুরের পুজোয় ও দেওয়া হত না ছানার মিষ্টি, কারন ছানা দুধ কেটে তৈরি হত । এই পর্তুগিজদের আনা ছানার ব্যাপারটা একটু ইন্টারনেট ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন ।

তাই রসগোল্লা নিয়ে এই মিষ্টি লড়াই বাংলা বনাম উড়িষ্যা না হয়ে পর্তুগাল বনাম চীন হলে অনেক বেশি লজিক্যাল হত । তাই নয় কি ? তবে এটাও ঠিক আমরা যা কিছু মহান বরণ করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায় । তাই চীনের চিনি আর পর্তুগালের ছানা দিয়ে রসগোল্লা সন্দেশ আর এত রকমের মিষ্টি তৈরি হয়েছে ।  

গোল্লা পাকানো ছানা, চিনির রসে ডুবে যে ম্যাজিক তৈরি করে, সেই ম্যাজিকের কথা সারা ভারত জানে, সেটা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার দরকারই নেই ।

এই এপিসোড মেচা সন্দেশ নিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেটা পরের এপিসোডে। সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং একটা এপিসোড হবে কিন্তু । মিস করবেন না।

যেখানে এই পডকাস্ট শুনছেন, সেখানে, ফলো, সাবস্ক্রাইব এগুলো করা থাকলে এই উইকলি আড্ডাটা মিস হবে না। স্পটিফাইতে যদি শুনছেন, তাহলে প্লিজ রেটিংটা দিয়ে দেবেন, তাহলে আরো বেশি লোকের কাছে পৌঁছে যাবে। পডকাস্ট যেহেতু মনিটাইজ হয়না, ফলে এর থেকে দু পয়সা ইনকাম হবে এমন নয়, কিন্তু বেশি লোক শুনলে খাটনিটা একটু দাম পায় । একটা নতুন টপিকে কথা বলার ইচ্ছে জন্মায়, এই আর কি । বেশি চেয়ে ফেললাম কি ? 

যাই হোক, ভালো থাকবেন । সবাইকে নিয়ে সুস্থ থাকবেন। ফিরছি সামনের সপ্তায় । এখন চলি, টাটা ।