Listen

Description

অন্য সবার মত কার্ডে ইনভাইট করতে চাইনি আমার বিয়াতে ৷ তাই এই আকাম করছিলাম.. গানটায় মিউজিক দেয়ার কথা ছিল, সময়ের অভাবে পারি নাই ৷ এইটা ডেমো হিসাবে রেকর্ড করছিলাম, এইটাই পরে ইজ্জত বাঁচাইছে ৷ -_-

________________________

শুরুতেই বন্দনা করি আসমান-জমিন যার,
তারপরেতে সালাম-আদাব নিও গো আমার ৷
প্রথমেই করজোরে চাইয়া নিলাম ক্ষমা,
ভুল-ক্রুটি সব চলো ভুলি বুকে যত জমা ৷
আনন্দের এক সংবাদ দিতে নিলাম সময় চাইয়া,
সেই আনন্দ দ্বিগুণ হইবে তোমায় কাছে পাইয়া ৷
ইচ্ছা ছিল এই খবরটা বলিবো সাক্ষাতে,
নিজ গুণেতে কৈরো ক্ষমা, সময় নাই হাতে..

পরিবারের সেজো ছেলে নিজ খেয়ালে থাকি,
হঠাৎ একদিন হোঁচট খাইয়া আর নাই কিছু বাকি..
হোঁচট খাইয়া বুকের বামে চিনচিন করে ব্যাথা,
পরিবারে ভয়ে ভয়ে জানাইলাম সেই কথা ৷
পরিবারের সবাই তখন চিন্তিত হইলো,
না জানি কোন কঠিন রোগে সুমনরে পাইলো!
এই রোগের কি চিকিৎসা নাই? ছেলে বুঝি মরে,
ডাক্তার-কবিরাজ হেকিমের ডাক পড়িলো ঘরে..
ডাক্তার-কবিরাজ হেকিমে কৈলো কানে কানে,
সমস্যা কি খুলিয়া কও, ব্যথা কোনখানে?

লজ্জার কথা কি বলিবো, ব্যথা হৈলো বুকে,
প্রতিদিন রোজ শত-কোটি প্রাণ যায় এই অসুখে..
ডাক্তার-কবিরাজ হেকিমে উঠিলো হাসিয়া,
বাপ-মায়েরে ডাকিয়া কয় – “দেখে যান আসিয়া..
আপনার ছেলে মন হারাইছে, বাঁচবে না সে আর,
যদি না সেই হারানো মন খুঁজে আনেন তার..
এদিক সেদিক খোঁজাখুঁজি, কোথাও না মেলে,
হারানো মন যাইবে পাওয়া কোনখানেতে গেলে?
পেরেশানি দেখে সবার মুখ খুলিলাম শেষে,
সুমনের মন কে নিয়াছে বললাম অবশেষে..

শাহজামাল মিঞার বাড়িতে পাগলী জুথি’র বাস,
সেও তার মন হারাইয়া করছে সর্বনাশ..
দুইজনায় এক শুভ লগনে পরিচয় হইলো,
হারানো মন হঠাৎ করে ফিরিয়া পাইলো ৷
অন্তরেতে প্রবল হৈলো চিনচিনে সেই ব্যথা,
প্রতিটা মূহুর্তে মনে পড়ে তার কথা..
হাতে হাত রাখিয়া দুপুর সন্ধ্যা হইলো,
অঝোরে কান্নার রজনী সাক্ষী রইলো..
পরিবারের গুরুজনে মিটিংয়ে বসিলো,
দুই পাগলরে এক করিতে অঙ্ক কষিলো ৷
অঙ্ক ভারী জটিল, তবু মিললো অবশেষে,
দুই পরিবার হাত মিলাইলো, বুক মিলাইলো হেসে..

এরপরেতে দীর্ঘ দুইটা বছর অপেক্ষায়,
পৃথিবীর দুই প্রান্তে দুইজন অপেক্ষাতে হায়!
একজনার বুকেতে আগুন, আরেক বুকে পানি,
দুইজনার দুই প্রান্তেতে বাস কে নিভায় আগুনী?
অবশেষে অপেক্ষারই প্রহর শেষ হইলো,
দুইজনার সাধনা শেষে কাছেতে পাইলো ৷
সেই আনন্দে পরিবারে মিলেমিশে সবে,
অক্টোবরের ১ তারিখে একত্রিত হবে ৷
ঢাকারই নিউমার্কেটে এক কনভেনশন সেন্টারে
অক্টোবরের ১ তারিখে রাতে শনিবারে ৷
পাড়াপড়শী, শুভাকাঙ্খী, বন্ধু নিয়ে সাথে
এক টেবিলে আড্ডা দেবো, পাতে ডাল-ভাতে..
পুরোনো সব গ্লানি ভুলবো জমা যত মনে,
আড্ডাবাজি, খাওয়াদাওয়া, সেলফি তুলবো ফোনে..
আড্ডায় পবিত্রতা আসবে বিশেষ একজন পেয়ে,
আশির্বাদ করিবে তাহার পঞ্চাশ ছেলে-মেয়ে..
হাজেরা আপা’র গুণগান শেষ হবে না বলে,
তার কথা জানাবো তোমায় সেদিন সাক্ষাত হলে ৷
পরিচয় করায়ে দেবো ফাঁকে এক কোণাতে
লাল টুকটুক শাড়িতে বসা রাঙ্গা বধুর সাথে..
মঙ্গলবারতা নিয়া বন্ধু স্বয়ং এসো,
ভুলক্রুটি মার্জনা দিয়া একটু ভালোবেসো..

- কূপজলের মানুষ
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬